new link 2026

Online track bangla help24


শিরোনাম:
শেষ বৃষ্টির পরে

ঢাকার এক বৃষ্টিভেজা বিকেলে গল্পটা শুরু হয়।

মেহজাবিন ছাতা ছাড়া হাঁটছিল। তার চুল ভিজে গিয়ে কপালে লেগে আছে, আর চোখে এক অদ্ভুত শূন্যতা। মনে হচ্ছিল যেন সে বৃষ্টির মধ্যে নিজেকে হারিয়ে ফেলতে চাইছে। জীবনের এতগুলো বছর পেরিয়ে এসে আজ সে বুঝতে পারছে—সবচেয়ে বড় একাকীত্বটা আসে তখনই, যখন চারপাশে মানুষ থাকে কিন্তু নিজের মানুষটা থাকে না।

ঠিক তখনই পেছন থেকে কেউ ডাকল,
“এই! এত ভিজছো কেন?”

মেহজাবিন ঘুরে তাকাল। ছাতার নিচে দাঁড়িয়ে আছে এক ছেলে। সাদা শার্ট, ভেজা বাতাসে একটু উড়ছে। চোখ দুটো অদ্ভুত শান্ত।

“আমি ঠিক আছি,” সে উত্তর দিল।

ছেলেটা একটু হেসে বলল,
“ঠিক থাকলে মানুষ এভাবে ভিজে না।”

মেহজাবিন কিছু বলল না। ছেলেটা নিজের ছাতাটা একটু এগিয়ে দিল।
“চলুন, একটু হাঁটা যাক। বৃষ্টি থামা পর্যন্ত।”

সে জানত না কেন, কিন্তু অচেনা ছেলেটার সাথে হাঁটা শুরু করল।


অপরিচিত থেকে পরিচয়

ছেলেটার নাম ছিল রিয়াদ।

হাঁটতে হাঁটতে তারা কথা বলতে শুরু করল। প্রথমে ছোটখাটো—কোথায় থাকো, কী করো। কিন্তু অদ্ভুতভাবে কথাগুলো গভীর হয়ে উঠল।

“আপনি কাঁদছিলেন?” রিয়াদ হঠাৎ জিজ্ঞেস করল।

মেহজাবিন থমকে গেল।
“না তো।”

“বৃষ্টির পানির সাথে চোখের পানি মিশে গেলে বোঝা যায় না। কিন্তু অনুভব করা যায়।”

এই কথাটা শুনে মেহজাবিনের বুক কেঁপে উঠল। অনেকদিন পর কেউ তার ভেতরের কথা পড়তে পারল।

“সবাই চলে যায়,” সে ধীরে বলল।
“কেউ থাকে না।”

রিয়াদ একটু চুপ করে থাকল। তারপর বলল,
“সবাই না। কেউ কেউ থাকে। শুধু আমরা ঠিক সময়ে চিনতে পারি না।”


বন্ধুত্বের শুরু

সেই দিনটা শেষ হয়ে গেল, কিন্তু গল্পটা শেষ হল না।

পরের দিন রিয়াদ একটা মেসেজ পাঠাল—
“আজ বৃষ্টি নেই। তবুও হাঁটবেন?”

মেহজাবিন হাসল। অনেকদিন পর সে কারও মেসেজে হাসল।

তাদের দেখা হতে লাগল নিয়মিত। কখনো বইয়ের দোকানে, কখনো কফিশপে, কখনো শুধু রাস্তা ধরে হাঁটা।

রিয়াদ খুব সাধারণ একজন মানুষ ছিল। কিন্তু তার কথাগুলো ছিল অদ্ভুত গভীর।

“জানো, ভালোবাসা মানে কাউকে পাওয়া না,” একদিন সে বলল,
“ভালোবাসা মানে কাউকে হারানোর ভয় থাকা।”

মেহজাবিন চুপ করে তার দিকে তাকিয়ে ছিল।

“তুমি কি কাউকে হারিয়েছ?” রিয়াদ জিজ্ঞেস করল।

মেহজাবিন দীর্ঘশ্বাস ফেলল।
“হ্যাঁ। একবার ভালোবেসেছিলাম। সে বলেছিল কখনো ছেড়ে যাবে না। তারপর একদিন হঠাৎ করে চলে গেল।”

“তুমি এখনও তাকে ভালোবাসো?”

সে একটু ভেবে বলল,
“না। কিন্তু তাকে হারানোর কষ্টটা এখনও আছে।”


অপ্রকাশিত অনুভূতি

দিনগুলো যেতে লাগল।

রিয়াদ আর মেহজাবিন একে অপরের জীবনের অংশ হয়ে উঠল। তারা একসাথে হাসত, গল্প করত, ঝগড়া করত। কিন্তু একটা জিনিস তারা কখনো বলেনি—ভালোবাসা।

কারণ দুজনেই ভয় পেত।

একদিন সন্ধ্যায়, নদীর ধারে বসে ছিল তারা।

রিয়াদ বলল,
“যদি একদিন আমি হঠাৎ করে চলে যাই?”

মেহজাবিনের বুক ধক করে উঠল।
“তুমি যাবে কেন?”

“যদি যেতে হয়?”

সে কিছুক্ষণ চুপ করে থাকল। তারপর বলল,
“তাহলে আমি আর কাউকে বিশ্বাস করব না।”

রিয়াদ হাসল, কিন্তু চোখে একটুখানি কষ্ট ছিল।
“তাহলে আমি থাকব।”


ভালোবাসার উপলব্ধি

একদিন হঠাৎ করে রিয়াদ কয়েকদিনের জন্য যোগাযোগ বন্ধ করে দিল।

মেহজাবিন প্রথমে ভাবল ব্যস্ত। কিন্তু দিন পেরিয়ে সপ্তাহ হয়ে গেল।

তার ভেতরটা ফাঁকা হয়ে গেল। সে বুঝতে পারল—সে আবার হারানোর ভয় পাচ্ছে।

এক রাতে সে নিজেই ফোন করল।

“তুমি কোথায়?” তার কণ্ঠ কাঁপছিল।

ওপাশ থেকে উত্তর এল,
“আমি একটু দূরে আছি।”

“কেন? আমাকে না বলে?”

“তুমি কি আমাকে মিস করছ?”

মেহজাবিন চোখ বন্ধ করল।
“হ্যাঁ… খুব।”

“তাহলে বুঝতে পারছো?”

সে আর কিছু বলতে পারল না।


ফিরে আসা

কয়েকদিন পর রিয়াদ ফিরে এল।

তারা আবার সেই পুরোনো রাস্তার পাশে দেখা করল। আকাশে হালকা মেঘ।

মেহজাবিন তাকে দেখেই দৌড়ে গেল।
“এভাবে চলে যেও না আর।”

রিয়াদ তার দিকে তাকিয়ে বলল,
“তুমি কি আমাকে ভালোবাসো?”

প্রশ্নটা শুনে সে থেমে গেল। এতদিনের জমে থাকা অনুভূতিগুলো একসাথে বের হয়ে আসতে চাইছিল।

“আমি জানি না কখন… কিন্তু হ্যাঁ,” সে বলল,
“আমি তোমাকে ভালোবাসি।”

রিয়াদ ধীরে হাসল।
“আমিও।”


শেষ বৃষ্টির গল্প

ঠিক তখনই বৃষ্টি শুরু হল।

প্রথম দিনের মতোই। কিন্তু আজ তারা একা না।

রিয়াদ ছাতা খুলল না।

“আজ ভিজব?” সে জিজ্ঞেস করল।

মেহজাবিন হেসে বলল,
“আজ আর একা না।”

বৃষ্টির মধ্যে দাঁড়িয়ে তারা হাত ধরল।

মেহজাবিন মনে মনে ভাবল—
সব মানুষ চলে যায় না। কেউ কেউ আসে, শুধু থাকার জন্য।

আর সেই বৃষ্টিভেজা বিকেলের মতোই, তাদের ভালোবাসা শুরু হল—
নীরব, গভীর, আর সত্যি।


সমাপ্তি (কিন্তু শেষ নয়)

ভালোবাসার গল্প কখনো শেষ হয় না।

কখনো সেটা বৃষ্টির মধ্যে শুরু হয়, কখনো হারানোর ভয়ে গভীর হয়, আর কখনো একদিন হঠাৎ বুঝতে পারা যায়—
যে মানুষটা পাশে আছে, সে-ই আপনার গল্পের সবচেয়ে সুন্দর অংশ।

মেহজাবিন আর রিয়াদের গল্পও তেমনই।

শেষ বৃষ্টির পরে তারা আর কখনো একা হাঁটেনি।

Post a Comment

0 Comments

Post a Comment (0)
3/related/default