꧁:" মিষ্টি প্রেমের গল্প " ꧂☆

Online track bangla help24
꧁:" মিষ্টি প্রেমের গল্প " ꧂☆
সকলকে শুভেচ্ছা। আশা করি সবাই ভাল আছেন। আলহামদুলিল্লাহ আমিও বেশ ভালো আছি। আর আপনাদের সবাই সব সময় ভালো থাকবেন। এটাই প্রত্যাশা করি। মিষ্টি প্রেমের বৃষ্টি দিয়ে মজার একটি গল্প আবেগ আর অনুভূতিতে ছড়িয়ে দেবো অল্প
 
 বন্ধুরা আজ একটি মিষ্টি প্রেমের গল্প নিয়ে হাজির হলাম আপনাদের মাঝে।প্রেম সত্য সুন্দর। প্রেম আছে বলেই আবেগ আছে অনুভূতি আছে।প্রেম আছে বলেই ভালোবাসা আছে। আর ভালোবাসার ফুল ফোটাতে চাইলে প্রেমের বিকল্প নাই। এ কথাটি যেমন সত্য প্রেম কোন বয়স মানে না।জাত মানে না ধর্ম মানেনা গরিব মানেনা ধনী মানে না। আসলে প্রেম আসে প্রেমের গতিতেই।আর প্রেম কখন কার প্রতি জন্ম নেবে, এটা আসলে কেউ আমরা আগে থেকে বলতে পারি না। আর তাইতো আমার চোখে দেখা সেরা একটি প্রেমের গল্প আজ আপনাদেরকে শোনাবো।এইতো কদিন আগেই গল্পটি শুনেছি আমি।

পৃথিবীর সর্ববৃহৎ সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারে আমরা ক'দিন আগেই একটা টিম গিয়েছিলাম।সেই টিমের মধ্যেই বন্দি ছিল প্রেমিক যুগল।তাদের সাথে গল্প করতে করতে এই প্রেম আলাপ শুনতে পেলাম।গল্পের নায়ক নায়িকার ছদ্মনাম ব্যবহার করছি আমি।কারণ তারা দুজনেই আমার খুব পরিচিত। অমর এবং সাথী।
হঠাৎ করে দুজনের পরিচয় হলো ফেসবুক থেকে।যদিও বা একই এলাকায় বাসা তাদের।অল্পস্বল্প কথার মাঝেই চলত তাদের পরিচিতি পর্ব। সাথে সাথে দেখা করার জন্য অমর অনেকদিন ধরেই বলছিল।কিন্তু সাথী কিছুতেই তার সাথে দেখা করবে না। না তখনও কোন প্রেমের সম্পর্ক হয়ে ওঠেনি।যাইহোক একদিন বিশেষ কাজে দুজনের দেখা হয়ে গেল।পরস্পর আলাপচারিতা হল। এরপর থেকে প্রায় টুকিটাকি কথা হতো মেসেঞ্জারে।মজার বিষয় হলো তখনও সাথী -অমরের নাম্বারটি ফোনে সেভ করেনি।সাথী একটু এমনই। একরোখা টাইপের।
 
 
 হালকা হালকা কিছু কথা, এবং কিছু কাজের মধ্যে জড়িয়ে যায় তারা।এভাবে প্রায় একটি মাস চলে গেল।
হঠাৎ করে একদিন কয়েকজন মিলে প্রাইভেট কারে করে একটি প্রোগ্রামে যাচ্ছিল।ড্রাইভার দ্রুত ব্রেক করতে গিয়ে সাথী ভয় পেয়ে অমরের হাতকে স্পর্শ করল।ঠিক সেই সময় একটি মৃদু কম্পন তৈরি হলো সাথীর হৃদয়ে। কি চমৎকার একটা অনুভূতি দোলা দিল তাৎক্ষণিকভাবে।যদিও সেই স্পর্শটি ছিল দুই থেকে তিন সেকেন্ডের মত।কিন্তু সেই অনুভূতি দোলা দিচ্ছিল সাথীর মনে। এবং সেই স্মৃতিকে মনে করলেই ক্ষণে ক্ষণে সাথী শিহরিত হয়ে ওঠে।কিন্তু সেটা সে কাউকেই বুঝতে দিলো না। আর এ বিষয়ে অমর ও তেমন কিছু বুঝতে পারল না। যাইহোক একদিন একটি মজার ঘটনা ঘটে গেল। অমর ব্যবসায়িক কাজে সকালের ফ্লাইটে ঢাকা চলে গেল।যাওয়ার পরে সাথীর সাথে একবার কথা হয়েছিল ফোনে। তারপর যেকোনো একটি কারণে সাথীর মন খারাপ হয়ে যায়। এবং সে অমরকে বলে অমর যেন আর কোনদিন কখনোই ওর সাথে কথা না বলে।এমনকি ফোন কল দিয়েও কখনো বিরক্ত না করে।এই এসএমএসটি দেখে অমরের মনে অশান্ত একটি ঢেউ দোলা দিতে লাগলো। এবং ভাবতে লাগলো কি তার অপরাধ -?
 
 ভাবছে আর সাথী কে কল দিচ্ছে। একের পর এক ১০ বার কল দেয়ার পরও সাথী কোন রেসপন্স করেনি। অমরৃ বেশ উতলা হয়ে পড়ল।অজানা অচেনা একটা কষ্ট ছুঁয়ে যেতে লাগলো তার বুকের ভেতর।তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে তার কষ্টগুলো।সে কি করবে কিছুই ভাবতে পারছে না।যাইহোক সে আবারো কল করে।এভাবে অসংখ্য বার কল করার পরেও যখন সাথী রেসপন্স করিনি।তখন সে আর নিজেকে কিছুতেই সংযত রাখতে পারছিল না।কেমন যেন একটা অশনি সংকেত অমরকে গ্রাস করতে লাগলো। সে অফিসের গুরুত্বপূর্ণ কাজে গিয়েছিল ঢাকায়।কাজটি শেষ করতে দুই-তিন দিন সময় লেগে যাবে।এমত অবস্থায় সে কাজে কিছুতেই মন বসাতে পারছিল না।সে আবারো চট জলদি এয়ারপোর্টে এসে, টিকিট করে বিকেলের মধ্যেই চলে এলো সাথীর বাসার গেটে।
গেটে এসে কলিংবেল বাজাচ্ছিল আর সাথী কে কল করছিল। এদিকে সাথী মন খারাপ করে বিছানায় জীর্ণ শীর্ণ অবস্থায় ছিল।কিন্তু সে কিছুতেই অমরের কল রিসিভ করছে না।এদিকে একের পর এক কলিং বেল বেজেই চলছে।অস্থির হয়ে ওড়না গায়ে দিয়ে ঝটপট সিঁড়ি বেয়ে নেমে গিয়ে গেট খুলেই দেখে অমর।অমরকে দেখে সাথী অপ্রস্তুত হয়ে যায়।কেমন যেন একটা ঝড়ো হওয়া বয়ে যেতে লাগলো দুজনেরই মনে।সাথে নির্বাক হয়ে অমরেরর দিকে তাকাচ্ছিল।অমরের চোখে মুখে যেন আগুন ঝরছে।চোখগুলো প্রচন্ড রকমের লাল হয়েছিল।বাইরে থেকে দেখে মনে হচ্ছিল তার মনের ভেতর টর্নেডো বয়ে যাচ্ছে। বেশ কয়েক মিনিট দুজনের মধ্যেই কোন ভাষা নেই। নির্বাক ভাবে একজন আরেকজনের দিকে চেয়ে আছে। বেশ খানিকটা দূরত্ব বজায় রেখে।এবার ভারী কন্ঠে অমর বলে উঠলো, আমার অপরাধ টা কি বলতে পারো-?তুমি কেন আমার ফোন ধরছো না কেন আমার এসএমএস সিন করছো না।তুমি কি জানো আমার ভিতরে কি হচ্ছে-?সাথীর মুখে আর কোন কথা নেই।

এবার কাঁদো কাঁদো হয়ে দুজন দুজনের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকলো।ঠোঁট গুলো কেমন যেন কাঁপছিল। এটা কি ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ নাকি প্রেমের বহিঃপ্রকাশ।কেউ কাউকে বোঝাতে পারল না।আর নিজেরাও বুঝে উঠতে পারল না।

Post a Comment

0 Comments

Post a Comment (0)
3/related/default